সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রেমাতাল পর্ব ২ মৌরি মরিয়ম

মুগ্ধ দেখলো তিতির অডিওটা সিন করেছে। যাক তাহলে নিশ্চই শুনছে এখন। শুনে হয়তো কাঁদছে, কিন্তু শান্তি তো পাচ্ছে! এটাই অনেক। ও কি একটা টেক্সট করবে? তিতির নিশ্চই রিপ্লে দিবেনা। তখন খারাপ লাগবে। এসব ভেবেও টেক্সট একটা করেই ফেলল, "তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে।" প্রায় সাথে সাথে মেসেজটা সিন করলো তিতির, কিন্তু রিপ্লে দিলনা। মুগ্ধ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলো শুধু একটা রিপ্লে আসার জন্য। কিন্তু এলনা। সারারাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে গানটা শুনলো তিতির। শুনতে শুনতে ভাবছিল ওদের প্রথম পরিচয়ের কথা। আহা! কি মিষ্টিই না ছিল মুহূর্তগুলো!!! তিতিরের সাথে মুগ্ধর পরিচয়টা খুব অন্যরকমভাবে হয়। আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে "ট্রাভেলারস অফ বাংলাদেশ" এর একটা ইভেন্টে এটেন্ড করেছিল ওরা দুজনেই। ইভেন্টটা ছিল বান্দরবানে "নাফাখুম ট্যুর।" তিতির এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফ্রি বসে ছিল। আর মুগ্ধ মাস্টার্স লাস্ট সেমিস্টারে উঠেছিল কেবল! ওটা ছিল তিতিরের সেকেন্ড ট্যুর উইদাউট ফ্যামিলি। প্রথমবার ফ্রেন্ডদের সাথে সিলেট গিয়েছিল এইচএসসি সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে। তিতির অবশ্যই খুব ভাগ্যবতী যে ওর ফ্যামিলি ওকে সব ধরনের স্বাধীনতা দিত যা অন্য অনেক...

এক মুঠো রোদ নৌশিন_আহমেদ_রোদেলা #part_1

চৌরাস্তার মোড়ে কপালে আড়াআড়িভাবে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে।গায়ে সাদামাটা শাড়ি,লম্বা চুলে বেনুনি করা শ্যামবর্ণের মেয়েটির কপাল কুঁচকে আছে হালকা বিরক্তিতে।সেই ১২ টায় টিউশনি শেষ হয়েছে তার এখন প্রায় ১২ টা ৩০। এই অাধাঘন্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো রিক্সার দেখা মিলছে না তার।তারওপর মাথার ওপর উত্তপ্ত সূর্য।মেয়েটির নাম রাদিয়ানা আহমেদ রোজা।সবাই রোজা নামেই ডাকে।কখনো শান্ত তো কখনো চঞ্চল....বৈশাখ মাসের কালবৈশাখীর মতো হুটহাটই মেজাজ পরিবর্তন হয় তার। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্তি যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই পাশ থেকে একটা ছেলে গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো - . এক্সকিউজ মি ম্যাম! আপনার কাছে কি সেলফোন হবে? . ছেলেটির কথায় ফিরে তাকালো রোজা।বিরক্তির সাথে চোখে-মুখে ফুটে উঠলো অপরিসীম কৌতূহল। সুঠাম দেহী ছেলেটির মাথায় ক্যাপ, চোখে ব্ল্যাক সানগ্লাস,গায়ে জড়ানো ব্লু জ্যাকেট।ছেলেটি ক্রমাগত চারপাশে চোখ বুলাচ্ছে...যেনো নিজেকে কারো চোখের আড়ালে রাখতে চাইছে সে।তাকে দেখে রোজার প্রথম যে কথাটি মনে হলো তা হচ্ছে-"ছেলেটি কোনো সন্ত্রাসী টন্ত্রাসী নয় তো?" রোজার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে এলো মুহূর্তেই। অর্ধেক ঢাকা মুখটির দিকে কিছুক্ষণ...

প্রেমাতাল পর্ব ১ মৌরি মরিয়ম

ঘড়িতে রাত ১২:৫৬ । অনেকক্ষণ যাবৎ ফোনটা বেজেই চলেছে, তিতিরের হাত পা কাঁপছে। ফোন ধরার সাহস হচ্ছেনা। অবশেষে থাকতে না পেরে ধরেই ফেলল, - হ্যালো - যাক, অবশেষে দয়া হলো ফোনটা ধরার। - আসলে আমি ফোনের কাছে ছিলাম না। তাই ধরতে পারিনি। - আর সেদিন যে সারারাত কল দিলাম, সেদিন ধরোনি কেন? - ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। - মিথ্যে বলোনা, অন্তত আমার কাছে। - আসলেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তা নাহলে তো পরদিন সকালের ফোনটাও ধরতাম না। - সকালে ধরে তো লাভ নেই, অফিসে থাকলে কি কথা বলা সম্ভব? - হুম বুঝেছি, বলো কি বলবে? - কাল কি তুমি আমাদের এদিকে এসেছিলে? চমকে উঠল তিতির, হ্যাঁ তিতির গিয়েছিল শুধু দূর থেকে মুগ্ধকে একবার দেখার জন্য। কিন্তু মুগ্ধ তো ওকে দেখেনি। তাহলে? - কই না তো। কেন জিজ্ঞেস করছো? - না মানে কাল সকালে যখন বেড়িয়েছি, কেন যেন মনে হচ্ছিল তুমি ওখানে ছিলে! - নাহ আমি বাসাতেই ছিলাম। - ও, আমি অবশ্য চারপাশ দেখেছি, কোথাও তোমাকে দেখতে পাইনি। তবু মানুষের মন তো, অনেকসময় অনেক কিছু ভেবে ফেলে। তাছাড়া ইদানীং তোমাকে বড্ড বেশি মিস করি! তিতির মনে মনে ভাবতে লাগলো, মুগ্ধ কিভাবে বুঝলো। এটা কি ওর ভালবাসার জোড়? নাকি টেলিপ্যাথি? তবু বলল, - এটা তোমার আমাকে...