সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এক বছরে ১৪ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। কোন কোন দেশের সাথে দেখে নিন


এক বছরে ১৪ টেস্ট খেলতে প্রস্তুত বাংলাদেশ? 
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট কম খেলে এই হতাশা অনেকদিনের, বাংলাদেশের জন্য আইসিসি টেস্ট ম্যাচ কম বরাদ্দ দেয় এই অভিযোগ নতুন না। কিন্তু ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কয়টি টেস্ট খেলবে জানেন কি? শুনে একটু অবাক হতে পারেন, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং ভারতের পর চতুর্থ সর্বোচ্চ ৩৪ টা টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। 
তারচেয়ে বড় কথা শুধু ২০২৪ সালেই ১৪ টা টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ! এক বছরে সবচেয়ে বেশি কয়টা টেস্ট খেলেছে এর আগে বাংলাদেশ? এই তথ্যটা আমার জানা নেই, আপনাদের জানা থাকলে জানাতে পারেন আমাকে। 
২০২৩ সালে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার কথা ছিল মাত্র ৫ টা, কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটা টেস্ট কম হওয়ায় এবছর বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে ৪ টা৷ বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ টেস্টের সিরিজ রয়েছে যেটা দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের নতুন WTC সাইকেল। 
কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে ১৪ টা টেস্ট ম্যাচ। সেগুলো একটু দেখে নেওয়া যাকঃ
ফেব্রুয়ারি-মার্চঃ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে থাকবে ২ টেস্ট, যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত। 
এপ্রিলঃ এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে থাকবে ২ টেস্ট। 
জুলাই-আগস্টঃ আফগানিস্তানের বিপক্ষে আরব আমিরাতের মাটিতে হতে যাওয়া সিরিজে থাকবে ২ টেস্ট। 
আগস্টঃ পাকিস্তান সফরে থাকবে ২ টেস্ট, যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত। 
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরঃ ভারত সফরে থাকবে WTC এর অন্তর্ভুক্ত ২ টেস্টের সিরিজ।
অক্টোবরঃ সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে থাকছে ২ টেস্ট যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত।
নভেম্বর-ডিসেম্বরঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে থাকছে আরো ২ টেস্ট যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত। 
অর্থাৎ, মোট সাতটা সিরিজের ১৪ টা ম্যাচের ভেতর পাঁচটা সিরিজের ১০ টা টেস্টই হবে WTC এর ২০২৩-২০২৫ সাইকেলের অন্তর্ভুক্ত। 
বাংলাদেশের মতো দল যারা খুব বেশি টেস্ট খেলেনা তাদের জন্য এক বছরে ১০ টা WTC এর টেস্টসহ ১৪ টা টেস্ট খেলা কি একটু চাপের হয়ে যাবেনা? 
কারন এগুলো শুধু টেস্ট ম্যাচের হিসাব, যেখানে দুটো বাদে বাকি ৫ সিরিজেই টেস্টের সাথে ওয়ানডে এবং/অথবা টি-টোয়েন্টি সিরিজ তো আছেই!  
আমার ব্যক্তিগত মতামত, এক বছরে ১৪ টেস্ট খেলার মতো ফিটনেস আমাদের অনেক প্লেয়ারের নেই, যার কারনে আমাদের প্লেয়ার রোটেশন পলিসিতে যেতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ারদের WTC এর ম্যাচ গুলোতে খেলানো যেতে পারে আর নতুন প্লেয়ারদের আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাজিয়ে দেখা যেতে পারে৷ 
কিন্তু WTC ম্যাচও তো কম না, ১০ টা!  
অন্য বড় দল গুলো অভ্যস্ত হলেও বাংলাদেশ এতো টেস্ট খেলে অভ্যস্ত না এক বছরে। প্লেয়ারদের ফিট রাখাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাশাপাশি আমার ধারণা আইসিসি এখানে ফেয়ার ফিক্সচার করতে পারেনি, যেখানে জুন ২০২৩ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত আমাদের ১২ টা ম্যাচ খেলার কথা সেখানে ২০২৪ সালেই ১০ টা দিয়ে রাখছে৷ আর কাউকে এতো চাপাচাপি করে সিরিজ দেয়নি কিন্তু। অন্যদের ফ্রি টাইম অনুযায়ী আমাদের ফিক্সচার সাজিয়েছে তারা৷ বাস্তবতা অবশ্য এটাই যে আমাদের এটা মেনে নিয়েই পারফর্ম করতে হবে৷

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

🏏🔥 ক্রিকেটে নতুন ১০ নিয়ম! বদলে যাচ্ছে খেলার চিত্র?

🏏 নতুন পরিবর্তনগুলো সহজ ভাষায় ১. ব্যাটার সময় নষ্ট করলে ৫ রান জরিমানা ব্যাটার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরের বল খেলার জন্য প্রস্তুত না হলে—প্রথমবার সতর্কবার্তা, দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত সতর্কতা, তৃতীয়বার থেকে ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে।  ২. নারী ক্রিকেটে বলের মাপ-ওজন নির্দিষ্ট পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য বলের আকার ও ওজনের আলাদা স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে।  ৩. Overthrow-এর সংজ্ঞা স্পষ্ট শুধু ফিল্ডারের মিসফিল্ডকে আর overthrow বলা হবে না। স্টাম্পে রান আটকানো বা রানআউট করার উদ্দেশ্যে বল ছোড়ার প্রচেষ্টাকে overthrow হিসেবে ধরা হবে।  ৪. “Ball finally settled” নিয়মে আম্পায়ারের বেশি স্বাধীনতা বল অবশ্যই বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা আর নেই। আম্পায়ার পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বল স্থির হয়েছে কি না।  ৫. Run-out/Stumping-এ বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দরকার স্টাম্প ভাঙার সময় ফিল্ডার শুধু বল ছুঁয়ে থাকলেই হবে না; বলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।  ৬. দিনের বেলার Test-এ Pink Ball ব্যবহার করা যাবে দুই দল সম্মত হলে দিনের Test ম্যাচেও পরীক্ষামূলকভা...

নাজমুল হাসান সান্তকে নিয়ে বিসিবি একটু বেশিই experiment করছে না তো। পরিসংখ্যান দেখুন

নাজমুল হাসান শান্তর মধ্যে প্রতিভা রয়েছে বার বার এই তা প্রমান দিয়েছে। দেশের মাটিতে u19 বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে অসাধারন খেলেছে। এই প্রতিযোগিতায় ২৫৯ রান সংগ্রহ করে।তখন থেকে তার উপর বিসিবি নজর রাখছে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট হলো ধৈর্যের খেলা, শান্তর কি সে ধৈর্যটা কি আ ছে??  চলুন দেখা যাক তার পরিসংখ্যান  ২০ জানুয়ারি ২০১৭ সালে ৮৪ তম টেস্ট ক্যাপ নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সাথে মাঠে নামে।এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ এর ৭ ইনিংস এ ব্যাট করে ২০১ রান সংগ্রহ করেছে। রানের গড়  ২৮ এবং সর্বচ্চ ইনিংস ৭১। এরকম একজন ব্যাটসম্যানকে ৩ এ খেলানো কি বেশি experiment হচ্ছে না তো।  আমরা ভারত অস্ট্রেলিয়ার দিকে তাকাই তা হলে বুঝতে পারবো ৩ নম্বর এ আসলে কারা খেলে। অস্ট্রেলিয়া এখন ৩ নম্বর এ খেলেন মার্নাস লাবুসচাগনে তার রানের গড় ৬০+ ভারতে দেখেন পুজারা খেলে ৩ নম্বর এ তার রানের গড় ৪৭+। বিশ্বের সব দেশেই ৩ নম্বর পজিশনে ভালো ব্যাসম্যানরা ব্যাটিং করে।  আর একটা প্রশ্ন থেকেই জায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জাতিয় পর্যায় কেন experiment করানো হয়? তা হলে  জাতীয় লিগুলো কোন পর্যায় আছে।  মমিনুল হকের ১০ম টেস্ট সেঞ্চুরি দেখে ...

এক নজরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি

২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে পা রাখবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এক নজরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি- ১০ জানুয়ারি, ২০২১ : বাংলাদেশে পা রাখবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ : ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচ, ভেন্যু: বিকেএসপি, সাভার। ২০ জানুয়ারি, ২০২১: প্রথম ওয়ানডে ,   ভেন্যু: শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা। ২২ জানুয়ারি, ২০২১ : দ্বিতীয় ওয়ানডে ,  ভেন্যু: শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা। ২৫ জানুয়ারি, ২০২১: তৃতীয় ওয়ানডে ,   ভেন্যু: জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম। ২৮-৩১ জানুয়ারি, ২০২১ : চারদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ , ভেন্যু: এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম। ৩-৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ : প্রথম টেস্ট ,  ভেন্যু: জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম। ১১-১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১:  দ্বিতীয় টেস্ট ,   ভেন্যু: শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা।