মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩

বাজবলের ওপেনিং জুটি কেমন? বাংলাদেশের কোমন?


টেস্ট ক্রিকেটে গত ২ বছরে ইংল্যান্ডের ওপেনিং পার্টনারশিপের অবস্থা কেমন? 
এক কথায় বললে,  টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলির মধ্যে ওপেনিং পার্টনারশিপের গড় বিবেচনায় ইংল্যান্ডের অবস্থান ৮ নম্বরে। ইংল্যান্ডের নিচে আছে শুধু বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড আর আফগানিস্তান। 
ওপেনিং পার্টনারশিপে সবচেয়ে বেশি গড়ে রান তুলেছে পাকিস্তান। গত দুই বছরে পাকিস্তানের ওপেনাররা গড়ে ৫০.৮২ হারে রান করেছে। ওপেনিং পার্টানারশিপে অর্ধশত গড় বজায় রাখাদের তালিকায় পাকিস্তান ছাড়া আর কেউ। তালিকার দুইয়ে যে শ্রীলঙ্কা, তাদেরও ওপেনিং পার্টনারশিপের গড় ৪৭.৭০। 
গড় বিবেচনায় তালিকাটা এরকম:
১/ পাকিস্তান- ৫০.৮২
২/ শ্রীলঙ্কা- ৪৭.৭০
৩/ নিউজিল্যান্ড- ৪২.২৩
৪/ ভারত- ৪০.১২
৫/ উইন্ডিজ- ৩৭.৮৭
৬/ দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩৪.১৬
৭/ জিম্বাবুয়ে- ৩০.৭৬
৮/ অস্ট্রেলিয়া- ৩০.১৪
৯/ ইংল্যান্ড- ২৯.৭৬
১০/ বাংলাদেশ- ২৬.৫৬
১১/ আয়ারল্যান্ড- ৮.১২
১২/ আফগানিস্তান- ৬.১৬
এই টাইমস্প্যানে ইংল্যান্ড মোট ৬ জন ওপেনিং পার্টনারকে ট্রাই করেছে। ইংল্যান্ডের ওপেনিং পার্টারশিপগুলির গড় নিচের ছবিতে সংযুক্ত করে দেওয়া হল। 
এবার ২০২১ ঘুরে ২০২২ এ আসা যাক। ক্রাউলি আর ডাকেটের ওপেনিং পেয়ারটাই ইংল্যান্ডের ওপেনিং স্কোরকে দিয়েছে বড় ভরসা। ২০২১ থেকে না হলেও ২০২২ থেকে এই অব্দি জ্যাক ক্রাউলি ও বেন ডাকেটের ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়ে রান তুলেছে ৫০ এরও ওপরে। তবে সবচাইতে মজার ব্যাপারটা অন্য জায়গাতে। সেটি হল এই দুই পেয়ার-এর রান রেট। ইংল্যান্ডের হয়ে তারা দুজন মিলে ওপেন করতে নেমেছেন এমন ইনিংসের সংখ্যা ১৪ টা। এই ১৪ ইনিংসে তারা প্রতি ৬ বলে করেছেন ৫.৭২ রান! 
গত দুই বছরে টেস্ট ক্রিকেটে এদের চাইতে বেশি দ্রুত রান তুলতে পেরেছে মাত্র ২ টা পার্টনারশিপ। তবে এই ২ পার্টনারশিপের রান আর সময় এত কম যে সেটাকে ঠিক ধর্তব্যে আনা যায়না। 
ইংলিশ ওপেনিং পেয়ারের চাইতে বেশি দ্রুত রান তোলা দুটি পার্টনারশিপই আবার করেছেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসানের ওপেনিং পেয়ারের রান রেট ছিল ৭.৫৭। তবে এই জুটি ওপেন করতে নেমেছিলেন মাত্র ২ টি ইনিংসে। তালিকার পরের নাম তামিম ইকবাল-লিটন কুমার দাস। এক ইনিংসে ওপেন করতে নেমে তাদের পার্টনারশিপের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র ৫ ওভার। এই ৫ ওভারে তাদের রান রেট ছিল ৬.৪০। 
তবে মিনিমাম ১০০ বল ফেস করেছে এমন ওপেনিং পার্টনারশিপের মধ্যে ক্রাউলি ও ডাকেটের চাইতে দ্রুত কেউই রান তুলতে পারেনি। শুধু পারেনি তাই-ই নয়, আর কোন ওপেনিং পার্টনার জুটি এ সময় রান রেটের কাঁটাটাকে ৫ এর বেশিও করতে পারেনি। তালিকার দ্বিতীয় নাম্বারে যে রোহিত-আগারওয়াল জুটি, সেটির রান রেটও ছিল ৪.৭২। 
ক্রাউকি-ডাকেট জুটির আরেকটা ব্যাপারও খেয়াল রাখতে হবে। মিনিমাম ১০০ বল ফেস করেছে এমন ওপেনিং জুটিগুলির মধ্যে ক্রাউলি আর ডাকেটের জুটির রান রেট দেখে আপনি চোখ কপালে তুলতে বাধ্য। লাল বলে এই ক্রাইটেরিয়ায় এই দুই জুটি রান তুলেছে ৬.২১ রেটে! এই ক্রাইটেরিয়ায় ৬ কেন, ৫ রানও তুলতে পারেনি কোন ওপেনিং জুটি।
আবার টেস্ট ক্রিকেট তো ছাড়ুন, এমনকি ওয়ানডে ফরম্যাটেও ওপেনিং জুটিতে ৬+ রান রেটে রান তুলেছে মাত্র দুটি দেশ। সেই দুটি দেশের একটি আবার ইংল্যান্ড নিজেই - ৬.৭১! তালিকার পরের নামটি অস্ট্রেলিয়ার- ৬.৩৬!  
ইংলিশ ওপেনিং পেয়ার নিয়ে তাই একদমই কোন কনক্লুশনে আসা যায়না। চলমান এশেজে হয়তো ডাকেট-ক্রাউলি জুটি এখন অব্দি বড় কোন স্কোরে পৌছাতে পারেনি। তবে এই জুটি নিয়ে এখনই সমাপ্তির সীমায় পৌছানো যায়না। টেস্ট ক্রিকেটের জেতা ম্যাচে যে ৬ এর বেশি রান তোলা যায়, এটা পুরো বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই দুজন। 
ডাকেট-ক্রাউলি জুটির ওপর তাই আস্থা রাখতে হবে। এরাই সম্ভবত টেস্ট ক্রিকেটের 'বাজবল ওপেনিং' এর পাইওনিয়ার!
(Photo of English two openers is collected. The 3D bar chard photo is made by Sami) 
#Ashes2023 #englandcricket #australiacricket #cricket #buzzball #testcricket #openingpartner #zakcrawley

লেবেলসমূহ: ,

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম