বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩

হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে এসেছেন সৌম্য সরকার কিভাবে এবং কেন?




ইমার্জিং এশিয়া কাপের দল বাছাইয়ের সময় সৌম্যকে ডাকা হয়েছে সেই দলে। তবে সেই দলের সবাই যে সুবিধাটা পাচ্ছে না, সেটি আবার পাচ্ছে সৌম্য সরকার। সেই সুবিধাটি হল, ইমার্জিং এশিয়া কাপের দলে ডাক পেলেও সৌম্য অনুশীলন করছে বাংলাদেশের পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজের দলের সাথে।


গুঞ্জন আছে চন্ডিকা হাতুরুসিংহের  চাওয়াতেই ডাকা হয়েছে তাকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সৌম্য ডাক পেয়ে করবেন টা কি? ওয়ানডে ভাবনায় তাকে কেন রাখা হল? তিনি কি এই সুযোগের প্রাপ্য?


একটু ফিরে গিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চলে যাওয়া যাক। লিস্ট-এ টুর্নামেন্টের এই আসরে সৌম্য ছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। ১১ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তিনি এখানে করেছেন ২৬.৬৪ গড়ে মাত্র ২৯৩ রান। সৌম্যর স্ট্রাইক রেটটাও আবার এখানে নাঈম কিংবা বিজয়ের চেয়ে অনেক কম- ৮৩.২৪। 


পুরো টুর্নামেন্টেই সৌম্য হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন একটা আর সেঞ্চুরি করেছেন সমান একটা। সেই হাফ সেঞ্চুরিটা আবার এসেছিল অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। এই ম্যাচে সৌম্য ওপেন করতে নেমে ৫৬ রান করতে তিনি খরচ করেছিলেন ৯১ বল! একমাত্র সেঞ্চুরির ম্যাচে লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের বিপক্ষে সৌম্য করেছেন ১১২ বলে ১০২! 


পুরো টুর্নামেন্টে এই দুটি ইনিংস ছাড়া আর কোথাও সৌম্য বলার মত রান করেননি। পুরো টুর্নামেন্টে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ১৬(১৯), আবাহনীর বিপক্ষে ১(৬), প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৭(১৫), লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের বিপক্ষে (১ম পর্বে) ৪১(২৬), শেখ জামাল ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে(১ম রাউন্ড)  ৮(১২), সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ১৩(২০), ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৯(১২), সুপার সিক্সে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ৮(৭), শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ২২(৩২)। এই রান নিয়ে সৌম্য ডাক পেয়েছেন সেমি-জাতীয় দলে। 


টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরারদের মধ্যে সৌম্যর অবস্থানও দুঃখজনক- ৪৬ তম!


তবে পুরো টুর্নামেন্টে তার ব্যাটিং পজিশন অনেকবারই রদবদল হয়েছে। তবে একটি ম্যাচ বাদে বাকি সব ম্যাচেই তিনি ১ থেকে ৪ এর মধ্যে ব্যাট করতে নেমেছেন। এখানে অবশ্য আরেকটা কথা বলে রাখা দরকার, মাত্র একটা ম্যাচেই তিনি চার নম্বরে নেমেছিলেন। তবে টপ অর্ডার ছাড়াও সৌম্যকে এক ম্যাচে লোয়ার অর্ডারেও ট্রাই করা হয়েছে এবং খুবই প্রত্যাশিতভাবে তিনি সাত নম্বরে ফেইল করেছেন। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে তার স্কোর ছিল ১২ বল খেলে ৮ রান! 


সৌম্য যে দুই ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছিলেন সেই দুই ম্যাচের একটা অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা এই ম্যাচে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে বল করেছিলেন মোট ৮ জন বোলার। তবে এদের মধ্যে আবু হায়দার রনি আর বোলিং একশনের কারণে ব্রাত্য হয়ে যাওয়া আরাফাত সানি ছাড়া আর কাউকেই আপনার চেনার কথা না। আবার এই যে ২ জন পরিচিত মুখ, এদের বিপক্ষেও সৌম্যর পারফরম্যান্স ভাল ছিল না। আবু হায়দার রনিকে ১২ বল ফেস করে ৭ বলই তিনি ডট খেলেছিলেন। বাকি ৫ বলে অবশ্য ৩ চার ও ২টা সিঙ্গেল নিয়ে তিনি ১৪ রান করেছিলেন। তবে আরাফাত সানির স্পিনে সৌম্যর দুর্বলতা ছিল চোখে পড়ার মত। ১৯ বল খেলে সানির ১৩ বলই তিনি দিয়েছিলেন ডট। বাকি ৬ বলে ১ চার ও ৫ টা সিঙ্গেল নিয়ে তিনি নিয়েছিলেন ৯ রান। সৌম্য শেষ অব্দি নিজের উইকেটটা খুইয়েছিলেন এই সানির বলেই।  সানি ছাড়াও অগ্রণী ব্যাংকের দলে যে স্পিনাররা ছিল, তাদের বলেও সৌম্য যে খুব একটা স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন এমনটা বলা যাবেনা। অফ স্পিনার মোহাম্মদ শরিফুল্লাহর ৩০ বলে তিনি নিয়েছিলেন মাত্র ১১ রান, সেখানে আবার ২০ টা বলই ছিল ডট। বাঁহাতি স্পিনার আজিম নাজিরের বিপক্ষেও সৌম্য ১৭ বলের ১২ টাই ডট দিয়েছিলেন, নিতে পেরেছিলেন ১৩ রান।   


এবার সেঞ্চুরির ম্যাচে ফেরা যাক। টুর্নামেন্টের একদম শেষ দিকে লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের বিপক্ষে সৌম্য সেঞ্চুরি করে ফেলে। ওপেন করতে নামা সেই ম্যাচে সৌম্যর পারফরম্যান্স ছিল এরকম-


মাশরাফির ২১ বলে ১২ টা ডট দিয়ে ১৩ রান


মুক্তার আলির ১১ বলে ২ টা ডট দিয়ে ১৮ রান


সোহাগ গাজীর ২০ বলে ১১ টা ডট দিয়ে ২১ রান


ডানহাতি লেগ স্পিনার জাওয়াদ রোয়েনের ২৯ বলে ১৭ টা ডট দিয়ে ১৫ রান


বাঁহাতি স্পিনার অনুপ কান্তি পালের ১৫ বলে ৯টা ডট দিয়ে ১৬ রান


ডিব্লি ডব্লি পেসার চিরাগ জানির ১৬ বলে ৭ টা ডট দিয়ে ১৯ রান


এই সারিগুলির দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন, স্পিনারদের বিপক্ষে রান করতে কতটা ধুকতে হয়েছে তাকে। এমনকি পড়ন্ত বেলায় মাশরাফিও যথেষ্ট ভুগিয়েছেন সৌম্যকে। শেষ অব্দি সৌম্যর উইকেট টা নিয়েছিলেন তিনিই। 


আবার সৌম্যকে আমরা যে ফ্লাইং স্টার্টের জন্যে দলে চাই, সেটিও কিন্তু তিনি কোন ম্যাচেই এনে দিতে পারেননি। সেঞ্চুরির ম্যাচটাতে প্রথম দশ বলে তিনি করেছিলেন ৫ রান, সেটাও আবার ৫ বল ডট দিয়ে। পরের ১০ বলেও সৌম্য ডট দিয়েছিলেন ৭ টা বলে। এই ম্যাচে সৌম্যর ডট বলের হার ছিল ৫১.৭৯%!  হাফ সেঞ্চুরির ম্যাচে সৌম্যর ডট বল রেট ছিল এটার চাইতেও বেশি- ৬৫.৯৩%। অনেকে অবশ্য পিচের কথাও বলতে পারেন। তবে এই পিচে ব্যাটিং করেই আবু হায়দার রনি ঐ ম্যাচে করেছিলেন ২৪ বলে ২২। এমনকি রিয়াদের ডট বলও এখানে ছিল সৌম্যর চেয়ে কম- ৪৩.৪৮%!  


তামিম ইকবাল চাইলে তাই সৌম্যকে দেখে বলতেই পারেন, “ফাইনালি আ ওর্থি অপোনেন্ট…”


এখন প্রশ্ন হল এই ভঙ্গুর ফর্ম নিয়ে তিনি জাতীয় দলকে আসলে দেবেন টাই বা কি? তার কি আদৌ কিছু দেওয়ার আছে? তাকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট আসলে কি করতে চাইছে? 


টিম ম্যানেজমেন্টের একটা চাওয়া হতে পারে এমন যে তারা হয়তো সৌম্যকে সাত নম্বরের জন্যে চাইছে। কিন্তু সৌম্য কি আসলেই এই রোলটা পালন করতে পারবে? সৌম্যকে নিয়ে লোয়ার অর্ডারে পাঠানোর প্রয়াস কিন্তু আগেও দেখা গেছে। সেখানে সৌম্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নি। সাত নম্বরে নামা ৩ ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ১৫.৩, স্ট্রাইক রেট ৭৫.৪। এছাড়াও সৌম্যকে একবার ছয়ে ও আরেকবা পাঁচেও খেলানো হয়েছে। পাঁচ নম্বরে নেমে তিনি ১০ বলে করেছিলেন ৩ রান, ছয় নম্বরে নেমে ১৩ বলে ১৯ রান। 


সৌম্যকে তাই আবারও লোয়ার অর্ডারে ট্রাই করার ভাবনাটা অনেকটা পুরনো ব্যার্থ এক্সপেরিমেন্ট অবুঝ ল্যাবমেটের মত আবারও করে যাওয়ার মত। একটা জায়গায় একজন প্রুভেন ফেইলিউরকে ট্রাই করা মনে হয়না খুব একটা কার্যকরী সিদ্ধান্ত হবে। 


আবার সৌম্য যে নেমেই শুরু থেকে বোলারকে চার্জ করতে পারেন এমনটাও কিন্তু না। সৌম্যর সেই ২০১৫ এর মত স্বপ্নের বছরগুলি ধরেই বলছি, পাওয়ারপ্লে তে সৌম্যর ডট খেলার হার ৫৯.৪ শতাংশ। 


আবার সৌম্যকে যদি একজন পেস-বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলানোর চিন্তাও করা হয়, সেটাও মনে হয়না খুব একটা ঠিক সিদ্ধান্ত হবে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই ৮ ইনিংসে বল করে উইকেট নিয়েছেন মাত্র চারটে। এই সময়ে সৌম্যর ইকোনমি ছিল ৮.০৬! এমনকি প্রতি উইকেট নিতে তাকে দিতে হয়েছে ৪৫ রান করে। এমনকি ডিপিএল চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর বিপক্ষে তার দুই ম্যাচের বোলিং কার্ড হলঃ ২-০-২৩-১ এবং ৩-০-১৮-০। সবচেয়ে বেশি ওভার বল তিনি করেছিলেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স এবং শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে সৌম্যর বোলিং কার্ড ছিল ৬-০-৫৩-০ এবং ৪-০-৪৪-১। 


এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের যে পেস বোলিং ইউনিট সেখানে সৌম্য আদৌ দরকারি কিনা সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। 


সৌম্যকে তাই কেন ডাকা হয়েছে এই প্রশ্নটি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমাকে স্রেফ তাই বলতে হবে,


“এমনি”


(Photo of Soumya Sarkar is collected)


#iccworldcup2023 #BangladeshCricketTeam #BangladeshCricket #soumyasarkar #AsiaCup2023 #odicricket #bcb #BangladeshCricketBoard #stats #CricketStats

লেবেলসমূহ: ,

বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩

এক বছরে ১৪ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। কোন কোন দেশের সাথে দেখে নিন


এক বছরে ১৪ টেস্ট খেলতে প্রস্তুত বাংলাদেশ? 
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট কম খেলে এই হতাশা অনেকদিনের, বাংলাদেশের জন্য আইসিসি টেস্ট ম্যাচ কম বরাদ্দ দেয় এই অভিযোগ নতুন না। কিন্তু ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কয়টি টেস্ট খেলবে জানেন কি? শুনে একটু অবাক হতে পারেন, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং ভারতের পর চতুর্থ সর্বোচ্চ ৩৪ টা টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। 
তারচেয়ে বড় কথা শুধু ২০২৪ সালেই ১৪ টা টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ! এক বছরে সবচেয়ে বেশি কয়টা টেস্ট খেলেছে এর আগে বাংলাদেশ? এই তথ্যটা আমার জানা নেই, আপনাদের জানা থাকলে জানাতে পারেন আমাকে। 
২০২৩ সালে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার কথা ছিল মাত্র ৫ টা, কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটা টেস্ট কম হওয়ায় এবছর বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে ৪ টা৷ বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২ টেস্টের সিরিজ রয়েছে যেটা দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের নতুন WTC সাইকেল। 
কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে ১৪ টা টেস্ট ম্যাচ। সেগুলো একটু দেখে নেওয়া যাকঃ
ফেব্রুয়ারি-মার্চঃ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে থাকবে ২ টেস্ট, যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত। 
এপ্রিলঃ এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে থাকবে ২ টেস্ট। 
জুলাই-আগস্টঃ আফগানিস্তানের বিপক্ষে আরব আমিরাতের মাটিতে হতে যাওয়া সিরিজে থাকবে ২ টেস্ট। 
আগস্টঃ পাকিস্তান সফরে থাকবে ২ টেস্ট, যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত। 
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরঃ ভারত সফরে থাকবে WTC এর অন্তর্ভুক্ত ২ টেস্টের সিরিজ।
অক্টোবরঃ সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে থাকছে ২ টেস্ট যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত।
নভেম্বর-ডিসেম্বরঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে থাকছে আরো ২ টেস্ট যা WTC এর অন্তর্ভুক্ত। 
অর্থাৎ, মোট সাতটা সিরিজের ১৪ টা ম্যাচের ভেতর পাঁচটা সিরিজের ১০ টা টেস্টই হবে WTC এর ২০২৩-২০২৫ সাইকেলের অন্তর্ভুক্ত। 
বাংলাদেশের মতো দল যারা খুব বেশি টেস্ট খেলেনা তাদের জন্য এক বছরে ১০ টা WTC এর টেস্টসহ ১৪ টা টেস্ট খেলা কি একটু চাপের হয়ে যাবেনা? 
কারন এগুলো শুধু টেস্ট ম্যাচের হিসাব, যেখানে দুটো বাদে বাকি ৫ সিরিজেই টেস্টের সাথে ওয়ানডে এবং/অথবা টি-টোয়েন্টি সিরিজ তো আছেই!  
আমার ব্যক্তিগত মতামত, এক বছরে ১৪ টেস্ট খেলার মতো ফিটনেস আমাদের অনেক প্লেয়ারের নেই, যার কারনে আমাদের প্লেয়ার রোটেশন পলিসিতে যেতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ারদের WTC এর ম্যাচ গুলোতে খেলানো যেতে পারে আর নতুন প্লেয়ারদের আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাজিয়ে দেখা যেতে পারে৷ 
কিন্তু WTC ম্যাচও তো কম না, ১০ টা!  
অন্য বড় দল গুলো অভ্যস্ত হলেও বাংলাদেশ এতো টেস্ট খেলে অভ্যস্ত না এক বছরে। প্লেয়ারদের ফিট রাখাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাশাপাশি আমার ধারণা আইসিসি এখানে ফেয়ার ফিক্সচার করতে পারেনি, যেখানে জুন ২০২৩ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত আমাদের ১২ টা ম্যাচ খেলার কথা সেখানে ২০২৪ সালেই ১০ টা দিয়ে রাখছে৷ আর কাউকে এতো চাপাচাপি করে সিরিজ দেয়নি কিন্তু। অন্যদের ফ্রি টাইম অনুযায়ী আমাদের ফিক্সচার সাজিয়েছে তারা৷ বাস্তবতা অবশ্য এটাই যে আমাদের এটা মেনে নিয়েই পারফর্ম করতে হবে৷

লেবেলসমূহ: ,

মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩

বাজবলের ওপেনিং জুটি কেমন? বাংলাদেশের কোমন?


টেস্ট ক্রিকেটে গত ২ বছরে ইংল্যান্ডের ওপেনিং পার্টনারশিপের অবস্থা কেমন? 
এক কথায় বললে,  টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলির মধ্যে ওপেনিং পার্টনারশিপের গড় বিবেচনায় ইংল্যান্ডের অবস্থান ৮ নম্বরে। ইংল্যান্ডের নিচে আছে শুধু বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড আর আফগানিস্তান। 
ওপেনিং পার্টনারশিপে সবচেয়ে বেশি গড়ে রান তুলেছে পাকিস্তান। গত দুই বছরে পাকিস্তানের ওপেনাররা গড়ে ৫০.৮২ হারে রান করেছে। ওপেনিং পার্টানারশিপে অর্ধশত গড় বজায় রাখাদের তালিকায় পাকিস্তান ছাড়া আর কেউ। তালিকার দুইয়ে যে শ্রীলঙ্কা, তাদেরও ওপেনিং পার্টনারশিপের গড় ৪৭.৭০। 
গড় বিবেচনায় তালিকাটা এরকম:
১/ পাকিস্তান- ৫০.৮২
২/ শ্রীলঙ্কা- ৪৭.৭০
৩/ নিউজিল্যান্ড- ৪২.২৩
৪/ ভারত- ৪০.১২
৫/ উইন্ডিজ- ৩৭.৮৭
৬/ দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩৪.১৬
৭/ জিম্বাবুয়ে- ৩০.৭৬
৮/ অস্ট্রেলিয়া- ৩০.১৪
৯/ ইংল্যান্ড- ২৯.৭৬
১০/ বাংলাদেশ- ২৬.৫৬
১১/ আয়ারল্যান্ড- ৮.১২
১২/ আফগানিস্তান- ৬.১৬
এই টাইমস্প্যানে ইংল্যান্ড মোট ৬ জন ওপেনিং পার্টনারকে ট্রাই করেছে। ইংল্যান্ডের ওপেনিং পার্টারশিপগুলির গড় নিচের ছবিতে সংযুক্ত করে দেওয়া হল। 
এবার ২০২১ ঘুরে ২০২২ এ আসা যাক। ক্রাউলি আর ডাকেটের ওপেনিং পেয়ারটাই ইংল্যান্ডের ওপেনিং স্কোরকে দিয়েছে বড় ভরসা। ২০২১ থেকে না হলেও ২০২২ থেকে এই অব্দি জ্যাক ক্রাউলি ও বেন ডাকেটের ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়ে রান তুলেছে ৫০ এরও ওপরে। তবে সবচাইতে মজার ব্যাপারটা অন্য জায়গাতে। সেটি হল এই দুই পেয়ার-এর রান রেট। ইংল্যান্ডের হয়ে তারা দুজন মিলে ওপেন করতে নেমেছেন এমন ইনিংসের সংখ্যা ১৪ টা। এই ১৪ ইনিংসে তারা প্রতি ৬ বলে করেছেন ৫.৭২ রান! 
গত দুই বছরে টেস্ট ক্রিকেটে এদের চাইতে বেশি দ্রুত রান তুলতে পেরেছে মাত্র ২ টা পার্টনারশিপ। তবে এই ২ পার্টনারশিপের রান আর সময় এত কম যে সেটাকে ঠিক ধর্তব্যে আনা যায়না। 
ইংলিশ ওপেনিং পেয়ারের চাইতে বেশি দ্রুত রান তোলা দুটি পার্টনারশিপই আবার করেছেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসানের ওপেনিং পেয়ারের রান রেট ছিল ৭.৫৭। তবে এই জুটি ওপেন করতে নেমেছিলেন মাত্র ২ টি ইনিংসে। তালিকার পরের নাম তামিম ইকবাল-লিটন কুমার দাস। এক ইনিংসে ওপেন করতে নেমে তাদের পার্টনারশিপের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র ৫ ওভার। এই ৫ ওভারে তাদের রান রেট ছিল ৬.৪০। 
তবে মিনিমাম ১০০ বল ফেস করেছে এমন ওপেনিং পার্টনারশিপের মধ্যে ক্রাউলি ও ডাকেটের চাইতে দ্রুত কেউই রান তুলতে পারেনি। শুধু পারেনি তাই-ই নয়, আর কোন ওপেনিং পার্টনার জুটি এ সময় রান রেটের কাঁটাটাকে ৫ এর বেশিও করতে পারেনি। তালিকার দ্বিতীয় নাম্বারে যে রোহিত-আগারওয়াল জুটি, সেটির রান রেটও ছিল ৪.৭২। 
ক্রাউকি-ডাকেট জুটির আরেকটা ব্যাপারও খেয়াল রাখতে হবে। মিনিমাম ১০০ বল ফেস করেছে এমন ওপেনিং জুটিগুলির মধ্যে ক্রাউলি আর ডাকেটের জুটির রান রেট দেখে আপনি চোখ কপালে তুলতে বাধ্য। লাল বলে এই ক্রাইটেরিয়ায় এই দুই জুটি রান তুলেছে ৬.২১ রেটে! এই ক্রাইটেরিয়ায় ৬ কেন, ৫ রানও তুলতে পারেনি কোন ওপেনিং জুটি।
আবার টেস্ট ক্রিকেট তো ছাড়ুন, এমনকি ওয়ানডে ফরম্যাটেও ওপেনিং জুটিতে ৬+ রান রেটে রান তুলেছে মাত্র দুটি দেশ। সেই দুটি দেশের একটি আবার ইংল্যান্ড নিজেই - ৬.৭১! তালিকার পরের নামটি অস্ট্রেলিয়ার- ৬.৩৬!  
ইংলিশ ওপেনিং পেয়ার নিয়ে তাই একদমই কোন কনক্লুশনে আসা যায়না। চলমান এশেজে হয়তো ডাকেট-ক্রাউলি জুটি এখন অব্দি বড় কোন স্কোরে পৌছাতে পারেনি। তবে এই জুটি নিয়ে এখনই সমাপ্তির সীমায় পৌছানো যায়না। টেস্ট ক্রিকেটের জেতা ম্যাচে যে ৬ এর বেশি রান তোলা যায়, এটা পুরো বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই দুজন। 
ডাকেট-ক্রাউলি জুটির ওপর তাই আস্থা রাখতে হবে। এরাই সম্ভবত টেস্ট ক্রিকেটের 'বাজবল ওপেনিং' এর পাইওনিয়ার!
(Photo of English two openers is collected. The 3D bar chard photo is made by Sami) 
#Ashes2023 #englandcricket #australiacricket #cricket #buzzball #testcricket #openingpartner #zakcrawley

লেবেলসমূহ: ,

আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করল ওমান!

বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করল ওমান! সেই আয়ারল্যান্ড, যারা গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ODI সিরিজে হারিয়েছিল। সেই আয়ারল্যান্ড, যারা গত বছর নিউজিল্যান্ডকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলেছিল। সেই আয়ারল্যান্ডকেই পরাজিত করল ওমান! 🔥

আইসিসির অ্যাসোসিয়েট মেম্বারদের এরকম উত্থান থেকে খুবই ভাল লাগছে। বিশেষ করে এশিয়া থেকে নেপাল, হংকং, ওমান, UAE-এর মতো দলগুলো বিগত কয়েক বছরে যথেষ্ট ভাল প্রদর্শন করেছে। এভাবেই সারা বিশ্বে ক্রিকেটের জয়জয়কার হোক 🏏❤️

লেবেলসমূহ: , ,

মুশফিকের ১০ লাখ, সাকিব লিটনের কত?


মুশফিক উপহার পেলেন ১০ লাখ টাকা, সাকিব-লিটনরা পাচ্ছেন ক্ষতিপূরণ। 
বিসিবি থেকে ১০ লাখ টাকা উপহার পেলেন মুশফিকুর রহিম। মাঠের ক্রিকেটে দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে অসামান্য অবদান রাখায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মুশফিককে বিশেষ এই সম্মাননা দিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তাছাড়া দেশের স্বার্থে প্রায়শই বিশ্বের বড় বড় লিগ থেকে আসা বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজির মোটা অংকের অফার পেয়েও দেশকে প্রাধান্য দেয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। ফলে সাকিব-লিটনরা পেতে পারেন ক্ষতিপূরন।

লেবেলসমূহ: ,